উমরাহ সম্পাদনের সম্পূর্ণ গাইড (الدليل الكامل لأداء العمرة)
ধাপে ধাপে নির্দেশিকা (دليل خطوة بخطوة)
মোট 15টি বিভাগ
উমরাহ প্রক্রিয়া - ভিজ্যুয়াল ডায়াগ্রাম (عملية العمرة - الرسم البياني)
তালবিয়া পড়া (قراءة التلبية)
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً
Labbaik Allahumma Umratan
প্রবেশ (الدخول)
اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
Allahumma Iftah Li Abwaba Rahmatik
প্রদক্ষিণ (الطواف)
بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
Bismillahi Wallahu Akbar
২ রাকাত (ركعتان)
পান করা (الشرب)
৭ বার যাতায়াত (7 مرات ذهاباً وإياباً)
ইহরাম খোলা (إزالة الإحرام)
উমরাহ ভ্রমণের প্রস্তুতি চেকলিস্ট (قائمة التحضير لرحلة العمرة)
📚 ভ্রমণের আগে শেখার জন্য সুপারিশকৃত বিষয়সমূহ (Recommended Learning Topics Before Travel)
- ১. উমরাহ/হজ্জ সম্পাদনের সওয়াব: উমরাহ/হজ্জ সম্পাদনের ফজিলত ও সওয়াব সম্পর্কে জানুন
- ২. উমরাহ/হজ্জ সম্পাদনের পদ্ধতি: ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শিখুন
- ৩. ইহরাম পরিধানের পদ্ধতি (পুরুষদের জন্য): ইহরামের কাপড় কীভাবে পরতে হবে
- ৪. ইহরামের সময় নিষিদ্ধ কাজসমূহ: ইহরাম অবস্থায় কী কী করা যাবে না
- ৫. গুরুত্বপূর্ণ দোয়া সমূহ: উমরাহ/হজ্জের সময় প্রয়োজনীয় সব দোয়া মুখস্থ করুন
📝 সহায়ক নোট (Handy Notes)
- ১. জরুরি যোগাযোগ নম্বর: জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নম্বর লিখে রাখুন
- ২. দোয়ার সংগ্রহ: সব গুরুত্বপূর্ণ দোয়ার একটি সংগ্রহ তৈরি করুন
- ৩. পরিবার ও বন্ধুদের জন্য দোয়ার তালিকা: যাদের জন্য দোয়া করতে হবে তাদের তালিকা তৈরি করুন
📄 গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র (Important Documents)
- ১. পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস বৈধতা থাকতে হবে (এবং ফটোকপি)
- ২. গ্রিন কার্ড: গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য (যদি প্রযোজ্য হয়)
- ৩. ভিসা নথি: সৌদি আরবের ভিসা সংক্রান্ত সব নথি
- ৪. ফোন আনলক: সৌদি আরবে ব্যবহারের জন্য ফোন আনলক করুন
- ৫. নুসুক অ্যাপ: অবশ্যই নুসুক (NUSUK) ডাউনলোড করুন। প্রথমে ভিসা নম্বর এবং পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন, তারপর রিয়াদুল জান্নাহ (Riyadul Jannah / Rawdah) এর জন্য ৩-৪ সপ্তাহ আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
🎒 অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস (Other Useful Things to Take)
- ১. টাকা: নতুন $১০০ নোট (সৌদি রিয়ালও নিন)
- ২. ফোন চার্জার: মোবাইল ফোন চার্জার
- ৩. গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ: প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র
- ৪. মাস্ক: স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য
- ৫. দোয়ার বই: দোয়ার সংগ্রহ বই
- ৬. পকেট নামাজের মাদুর: ভ্রমণের সময় নামাজ পড়ার জন্য
- ৭. উমরাহ/হজ্জ গাইড: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা সহ গাইড
- ৮. স্যান্ডেল/ফ্লিপ ফ্লপ: পুরুষদের জন্য (ইহরামের সময় ব্যবহারের জন্য)
💡 অতিরিক্ত পরামর্শ (Additional Tips)
- সব গুরুত্বপূর্ণ নথির ফটোকপি আলাদাভাবে রাখুন
- জরুরি যোগাযোগ নম্বর কাগজে লিখে রাখুন (ফোন হারিয়ে গেলেও কাজে আসবে)
- নুসুক অ্যাপে ভিসা নম্বর ও পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করে, রিয়াদুল জান্নাহ (Rawdah) এর জন্য ৩-৪ সপ্তাহ আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
- সব দোয়া আগে থেকে পড়ে মুখস্থ করুন
- সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করুন
উমরাহ সম্পাদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া (العملية الكاملة لأداء العمرة)
ধাপ ১: প্রস্তুতি (Preparation)
- উমরাহ করার নিয়ত করুন
- গোসল করুন (সুন্নাত) - পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য
- সুন্নাত সুগন্ধি ব্যবহার করুন (শুধু শরীরে, ইহরামের কাপড়ে নয়)
- ইহরামের কাপড় পরিধান করুন
- পুরুষ: দুইটি সাদা কাপড় (একটি কোমরে, একটি কাঁধে)
- মহিলা: সাধারণ পোশাক (মুখ ও হাত খোলা রাখবেন, কিন্তু ইহরামের সময় মুখমণ্ডল ঢাকতে হবে না)
- নামাজ পড়ুন (যদি নামাজের সময় হয়)
ধাপ ২: মিকাত থেকে ইহরাম (Ihram from Miqat)
- মিকাত অতিক্রম করার আগে ইহরাম গ্রহণ করুন
- ইহরামের নিয়ত করুন: "لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً" (Labbaik Allahumma Umratan)
- তালবিয়া পাঠ শুরু করুন
- তালবিয়া: "لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ"
- তালবিয়া উচ্চস্বরে পাঠ করুন (পুরুষদের জন্য)
- মহিলারা নিম্নস্বরে পাঠ করবেন
- তালবিয়া তাওয়াফ শুরু করার আগ পর্যন্ত পাঠ করতে থাকুন
ধাপ ৩: মক্কায় প্রবেশ (Entering Makkah)
- মক্কায় প্রবেশের দোয়া পাঠ করুন
- মক্কা দেখার সময় দোয়া করুন
- মসজিদুল হারামের দিকে অগ্রসর হন
- মক্কায় প্রবেশের পর বিশেষ দোয়া করুন
ধাপ ৪: মসজিদুল হারামে প্রবেশ (Entering Masjid al-Haram)
- মসজিদে প্রবেশের দোয়া পাঠ করুন: "اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ"
- কাবা শরীফ দেখার সময় দোয়া করুন
- কাবা শরীফ দেখার পর বিশেষ দোয়া করুন
- তালবিয়া পাঠ বন্ধ করুন (তাওয়াফ শুরু করার আগে)
ধাপ ৫: তাওয়াফ (Tawaf - 7 rounds around Kaaba)
- হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) এর দিকে যান
- হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে বা ইশারা করে "بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ" বলুন
- কাবা শরীফের বাম দিকে রেখে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে প্রদক্ষিণ শুরু করুন
- প্রতিটি চক্করে রুকনে ইয়ামানির কাছে দোয়া করুন
- হাতিমের কাছে দোয়া করুন
- মাকামে ইব্রাহিমের কাছে দোয়া করুন
- তাওয়াফের সময় যে কোন দোয়া করা যায়
- সাত চক্কর সম্পন্ন করুন
- সপ্তম চক্করের পর হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করুন
মনে রাখবেন: তাওয়াফের সময় যে কোন দোয়া করা যায়। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন।
ধাপ ৬: মাকামে ইব্রাহিমে দুই রাকাত নামাজ (Prayer at Maqam Ibrahim)
- তাওয়াফের পর মাকামে ইব্রাহিমের কাছে দুই রাকাত নামাজ পড়ুন
- প্রথম রাকাতে সূরা আল-ফাতিহা ও সূরা আল-কাফিরুন
- দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-ফাতিহা ও সূরা আল-ইখলাস
- নামাজের পর দোয়া করুন
- যদি মাকামে ইব্রাহিমে জায়গা না থাকে, মসজিদের যে কোন স্থানে পড়তে পারেন
ধাপ ৭: জমজম পান করা (Drinking Zamzam)
- জমজম কূপের কাছে যান
- জমজম পান করার দোয়া পাঠ করুন
- দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়ে পান করুন
- তিনবার পান করা সুন্নাত
- পান করার সময় দোয়া করুন
- পান করার পর দোয়া করুন
ধাপ ৮: সাঈ (Sai - Safa to Marwa)
- সাফা পাহাড়ে উঠুন
- কাবা শরীফের দিকে মুখ করে দোয়া করুন
- সাফায় উঠে আয়াত পাঠ করুন: "إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ"
- মারওয়ার দিকে হাঁটা শুরু করুন
- দুই সবুজ স্তম্ভের মধ্যে দৌড়ান (পুরুষদের জন্য)
- মহিলারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন
- মারওয়ায় পৌঁছে দোয়া করুন
- সাফার দিকে ফিরে যান
- সাতবার সম্পন্ন করুন (সাফা থেকে মারওয়া = ১, মারওয়া থেকে সাফা = ২, ইত্যাদি)
- সপ্তমবার মারওয়ায় শেষ হবে
- সাঈর সময় "رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ" বা অন্য যে কোন দোয়া পাঠ করতে পারেন
মনে রাখবেন: সাঈর সময় যে কোন দোয়া করা যায়। প্রধান দোয়া "رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَتَجَاوَزْ عَمَّا تَعْلَمُ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ"
ধাপ ৯: চুল কাটা/মুন্ডন (Hair Cutting/Shaving)
- সাঈ সম্পন্ন করার পর চুল কাটার দোয়া পাঠ করুন
- পুরুষদের জন্য: মুন্ডন করা উত্তম, চুল কাটাও জায়েজ (মাথার চুলের কিছু অংশ কাটলেই হবে)
- মহিলাদের জন্য: শুধু চুলের অগ্রভাগ কাটতে হবে (এক আঙ্গুল পরিমাণ)
- চুল কাটার পর ইহরাম থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন
- এখন সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন
ধাপ ১০: উমরাহ সম্পন্ন (Umrah Complete)
- উমরাহ সম্পন্ন হয়েছে
- এখন সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন
- সাধারণ কাজকর্ম করতে পারবেন
- সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবেন
- মদিনায় যাওয়া সুন্নাত (যদি সম্ভব হয়)
উমরাহ সম্পন্ন করার পর:
- মদিনা শরীফে গিয়ে মসজিদে নববীতে নামাজ পড়ুন
- রাসূলুল্লাহ (সা.) এর রওজা শরীফে সালাম দিন
- হযরত আবু বকর (রা.) ও হযরত উমর (রা.) এর কবরে সালাম দিন
- মদিনার অন্যান্য পবিত্র স্থানসমূহ যিয়ারত করুন
- বাকী'র কবরস্থান যিয়ারত করুন
- মসজিদে কুবা যিয়ারত করুন
- শুহাদায়ে উহুদের কবরস্থান যিয়ারত করুন
ইহরামের সময় নিষিদ্ধ কাজসমূহ:
- চুল কাটা বা মুন্ডন করা
- নখ কাটা
- সুগন্ধি ব্যবহার করা (ইহরামের কাপড়ে)
- শিকার করা
- যৌন সম্পর্ক
- বিবাহ করা বা বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া
- মহিলাদের জন্য: মুখমণ্ডল ও হাত ঢাকা (ইহরামের সময়)
- হাতমোজা পরা (মহিলাদের জন্য)
মহিলাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা:
- মহিলারা মাহরাম ছাড়া উমরাহ করতে পারবেন না
- হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় উমরাহ করা যায় না
- ইহরামের সময় মুখমণ্ডল ঢাকতে হবে না
- হাতমোজা পরা যাবে না
- তালবিয়া নিম্নস্বরে পাঠ করবেন
- সাঈর সময় স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন (দৌড়াবেন না)
- চুলের শুধু অগ্রভাগ কাটতে হবে (এক আঙ্গুল পরিমাণ)
উমরাহ কি? (ما هي العمرة؟)
উমরাহ হল ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা মক্কায় কাবা শরীফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ এবং চুল কাটার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি হজ্জের মতো ফরজ নয়, তবে এটি একটি সুন্নত এবং খুবই ফজিলতপূর্ণ ইবাদত।
উমরাহর ধাপসমূহ: (خطوات العمرة)
- ইহরাম গ্রহণ: মিকাত থেকে উমরাহর ইহরাম গ্রহণ করতে হবে
- তালবিয়া পড়া: ইহরাম গ্রহণের পর তালবিয়া পড়তে হবে
- মসজিদুল হারামে প্রবেশ: মক্কায় পৌঁছে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে হবে
- তাওয়াফ: কাবা শরীফের চারপাশে ৭ বার প্রদক্ষিণ করতে হবে
- মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ: তাওয়াফের পর মাকামে ইব্রাহিমে ২ রাকাত নামাজ পড়তে হবে
- জমজম পানি পান: জমজম কূপের পানি পান করতে হবে
- সাঈ: সাফা-মারওয়ার মধ্যে ৭ বার যাতায়াত করতে হবে
- চুল কাটা/মুন্ডন: সাঈ শেষে চুল কাটতে বা মুন্ডন করতে হবে
- ইহরাম খোলা: চুল কাটার পর ইহরাম খুলে ফেলতে হবে
উমরাহর গুরুত্ব ও ফজিলত (أهمية وفضائل العمرة)
কেন উমরাহ করি? (لماذا نؤدي العمرة؟)
১. আল্লাহর নির্দেশ - কুরআনের নির্দেশনা:
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:
وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ
Wa Atimmul Hajja Wal Umrata Lillah
অনুবাদ: "হজ ও উমরাহ আল্লাহর জন্য পূর্ণ করো।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯৬)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে হজ্জ ও উমরাহ আল্লাহর জন্য সম্পন্ন করতে হবে—তাই উমরাহ করি।
সূত্র: Quran.com
২. সুন্নাহ অনুসরণ - রাসূল (সা.) এর আমল:
রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে উমরাহ করেছিেন (একাধিকবার) — তাই সুন্নাহ অনুসরণ করে উমরাহ করি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনে একাধিকবার উমরাহ করেছিেন, যা আমাদের জন্য অনুসরণীয় সুন্নাহ।
সূত্র: Islam-QA
৩. গুনাহ মাফ - উমরাহ থেকে উমরাহ:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا
An Abi Hurairata Radiyallahu Anhu Anna Rasulallahi Sallallahu Alaihi Wasallam Qala: Al Umratu Ila Al Umrati Kaffaratun Lima Bainahuma
অনুবাদ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এক উমরাহ থেকে আরেক উমরাহ—মাঝের গুনাহের কাফফারা/মাফ।" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
উমরাহ → উমরাহ: এক উমরাহ থেকে আরেক উমরাহ—মাঝের গুনাহের কাফফারা/মাফ।
সূত্র: Sunnah.com
৪. আল্লাহর মেহমান - হাজী ও মু'তামির (উমরাহকারী):
হাজী ও মু'তামির (উমরাহকারী) আল্লাহর মেহমান/দল: তারা দুআ করলে কবুল হয়, ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করা হয়।
الْحَجَّاجُ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللَّهِ، دَعَوْهُ فَأَجَابَهُمْ، وَسَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ
Al Hajjaju Wal Ummaru Wafdullah, Da'awhu Fa Ajabahum, Wa Sa'aluhu Fa A'tahum
অনুবাদ: "হাজী ও উমরাহকারীরা আল্লাহর মেহমান। তারা দুআ করলে তিনি কবুল করেন এবং তারা চাইলে তিনি দেন।"
সূত্র: Ahadith
৫. বহুগুণ সওয়াব - বাইতুল্লাহ/মসজিদুল হারামে সালাত:
বাইতুল্লাহ/মসজিদুল হারামে সালাতের সওয়াব বহুগুণ (প্রচলিত: ১ লক্ষ গুণ): তাই সেখানে বেশি বেশি নামাজ পড়ার জন্য উমরাহ করি।
صَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ
Salatun Fil Masjidil Harami Afdalu Min Mi'ati Alfi Salatin Fima Siwahu
অনুবাদ: "মসজিদুল হারামে এক নামাজ অন্য মসজিদে এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।"
এই ফজিলতের কারণে মসজিদুল হারামে বেশি বেশি নামাজ পড়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য উমরাহ করি।
সূত্র: Islam Web
৬. হাজরে আসওয়াদ (Black Stone) - জান্নাত থেকে নাযিল:
হাজরে আসওয়াদ (Black Stone) জান্নাত থেকে নাযিল—এবং কিয়ামতে সত্যভাবে স্পর্শ/ইশারা করা ব্যক্তির পক্ষে সাক্ষ্য দেবে; তবে কাউকে কষ্ট না দিয়ে।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ الرُّكْنَ وَالْمَقَامَ يَاقُوتَتَانِ مِنْ يَاقُوتِ الْجَنَّةِ، طَمَسَ اللَّهُ نُورَهُمَا، وَلَوْ لَمْ يَطْمِسْ نُورَهُمَا لَأَضَاءَتَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ
An Abdullahi Ibn Amr Qala: Sami'tu Rasulallahi Sallallahu Alaihi Wasallam Yaqulu: Inna Ar Rukna Wal Maqama Yaqutatani Min Yaqutil Jannati, Tamasallahu Nurahuma, Wa Lau Lam Yatmis Nurahuma La Ad'ata Ma Baina Al Mashriqi Wal Maghribi
অনুবাদ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই রুকন (হাজরে আসওয়াদ) ও মাকামে ইব্রাহিম জান্নাতের দুটি ইয়াকুত (মূল্যবান পাথর)। আল্লাহ তাদের আলো ঢেকে দিয়েছেন। যদি তিনি তাদের আলো ঢেকে না দিতেন, তাহলে তারা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী সব কিছু আলোকিত করে দিত।"
গুরুত্বপূর্ণ: হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা ইশারা করার সময় কাউকে কষ্ট না দেওয়া, ভিড় এড়িয়ে শান্তভাবে করা এবং সত্যভাবে করা জরুরি।
সূত্র: Sunnah.com
৭. গুনাহ মাফের বড় কারণ:
উমরাহ গুনাহ মাফের বড় কারণ: বিশেষ করে উমরাহ-টু-উমরাহ মাঝের গুনাহ মাফ হয়; বড় গুনাহ হলে সত্য তাওবা জরুরি।
উমরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা গুনাহ মাফের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। তবে মনে রাখতে হবে:
- ছোট গুনাহগুলো উমরাহর মাধ্যমে মাফ হতে পারে
- এক উমরাহ থেকে পরবর্তী উমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হয়
- বড় গুনাহ (কাবিরা) হলে শুধু উমরাহ যথেষ্ট নয়, সত্য তাওবা করা জরুরি
- তাওবার সাথে উমরাহ করলে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়
উমরাহর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব (الأهمية الروحية للعمرة)
উমরাহ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় রীতি নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা যা মুসলমানদের:
- আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে
- আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযম শিক্ষা দেয়
- ইসলামি ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের অনুভূতি জাগ্রত করে
- ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করে
- আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ দেয়
উমরাহ কখন করা যায়? (متى يمكن أداء العمرة؟)
উমরাহ বছরের যেকোনো সময় করা যায়। হজ্জের মতো নির্দিষ্ট মাসে সীমাবদ্ধ নয়। তবে কিছু সময়ে উমরাহ পালনের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
উমরাহ করার উত্তম সময়: (أفضل الأوقات لأداء العمرة)
- রমজান মাস: রমজানে উমরাহ একটি হজ্জের সমান
- হজ্জের মাস ছাড়া: হজ্জের মাস (জিলহজ্জ) ছাড়া যেকোনো সময়
- রমজানের আগে: শাবান মাসে উমরাহ করা উত্তম
- হজ্জের পর: হজ্জ সম্পন্ন করার পর উমরাহ করা যায়
রমজানে উমরাহর ফজিলত:
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِامْرَأَةٍ مِنْ الْأَنْصَارِ: مَا مَنَعَكِ أَنْ تَحُجِّي مَعَنَا؟ قَالَتْ: لَمْ يَكُنْ لَنَا إِلَّا نَاضِحَانِ فَحَجَّ أَبُو وَلَدِهَا وَابْنُهَا عَلَى نَاضِحٍ وَتَرَكَا لَنَا نَاضِحًا نَنْضَحُ بِهِ قَالَ: فَإِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فَاعْتَمِرِي فَإِنَّ عُمْرَةً فِيهِ تَعْدِلُ حَجَّةً
An Ibn Abbasi Radiyallahu Anhuma Qala: Qala Rasulallahi Sallallahu Alaihi Wasallam Li Imraatin Min Al Ansari: Ma Mana'aki An Tahujji Ma'ana? Qalat: Lam Yakun Lana Illa Nadihan Fahajja Abu Waladiha Wa Ibnaha Ala Nadihin Wa Taraka Lana Nadihan Nandahu Bihi Qala: Fa Iza Ja'a Ramadhanu Fa'tamiri Fa Inna Umratan Fihi Ta'dilu Hajjatan
অনুবাদ: হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) আনসারি এক মহিলাকে বললেন: "তোমাকে আমাদের সাথে হজ্জ করতে কী বাধা দিল?" তিনি বললেন: "আমাদের কাছে দুটি উট ছিল, আমার স্বামী ও ছেলে একটি নিয়ে হজ্জে গেছে এবং আমাদের জন্য একটি রেখে গেছে যার দ্বারা আমরা কাজ করি।" রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "যখন রমজান আসবে, তখন উমরাহ করো, কারণ রমজানে উমরাহ একটি হজ্জের সমান।" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
উমরাহ কোথায় করতে হয়? (أين تؤدى العمرة؟)
উমরাহ শুধুমাত্র মক্কা শরীফে করা যায়। উমরাহর প্রধান কাজগুলো মক্কার বিভিন্ন স্থানে সম্পন্ন করতে হয়।
উমরাহর প্রধান স্থানসমূহ: (الأماكن الرئيسية للعمرة)
- মিকাত: উমরাহর ইহরাম গ্রহণের স্থান (মক্কার বাইরে)
- মসজিদুল হারাম: কাবা শরীফের চারপাশে অবস্থিত মসজিদ
- কাবা শরীফ: তাওয়াফ (প্রদক্ষিণ) করার স্থান
- মাকামে ইব্রাহিম: তাওয়াফের পর নামাজ পড়ার স্থান
- জমজম কূপ: জমজম পানি পান করার স্থান
- সাফা-মারওয়া: সাঈ (দৌড়ানো) করার স্থান
মিকাত (الميقات)
মিকাত হল সেই স্থান যেখান থেকে ইহরাম গ্রহণ করতে হয়। মক্কা থেকে বিভিন্ন দিক থেকে আসা লোকদের জন্য বিভিন্ন মিকাত নির্ধারিত:
মিকাতের স্থানসমূহ: (أماكن الميقات)
- যুল হুলাইফা (আবিয়ার আলী): মদিনা থেকে আসা লোকদের জন্য
- জুহফা: সিরিয়া, মিশর ও উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা লোকদের জন্য
- ক্বারনুল মানাজিল: নাজদ থেকে আসা লোকদের জন্য
- ইয়ালামলাম: ইয়েমেন ও দক্ষিণ থেকে আসা লোকদের জন্য
- যাতু ইরক: ইরাক থেকে আসা লোকদের জন্য
বিমানযোগে আসা ব্যক্তিরা: বিমানে মিকাত অতিক্রম করার সময় ইহরাম গ্রহণ করবেন।
উমরাহ কতবার করা যায়? (كم مرة يمكن أداء العمرة؟)
উমরাহ যতবার ইচ্ছা ততবার করা যায়। এটি হজ্জের মতো জীবনে একবার সীমাবদ্ধ নয়।
উমরাহ করার সুযোগ: (فرص أداء العمرة)
- সীমাহীন: উমরাহ যতবার ইচ্ছা ততবার করা যায়
- বছরে একাধিকবার: এক বছরে একাধিকবার উমরাহ করা যায়
- হজ্জের সাথে: হজ্জের সাথে উমরাহ করা যায় (হজ্জে তামাত্তু বা কিরান)
- স্বতন্ত্রভাবে: হজ্জ ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে উমরাহ করা যায়
হাদীস:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا
An Abi Hurairata Radiyallahu Anhu Anna Rasulallahi Sallallahu Alaihi Wasallam Qala: Al Umratu Ila Al Umrati Kaffaratun Lima Bainahuma
অনুবাদ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এক উমরাহ থেকে পরবর্তী উমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা (ক্ষমা)।" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
এই হাদীস থেকে বোঝা যায় যে উমরাহ বারবার করা যায় এবং প্রতিবারই এর ফজিলত রয়েছে।
কে কে উমরাহ করতে পারে? (من يمكنه أداء العمرة؟)
উমরাহ করার শর্তসমূহ: (شروط أداء العمرة)
- ইসলাম: উমরাহকারীকে মুসলমান হতে হবে
- বয়স: বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হতে হবে
- বুদ্ধি: সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে
- স্বাধীনতা: স্বাধীন হতে হবে (দাস নয়)
- সামর্থ্য: উমরাহ করার শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে
- সুযোগ: উমরাহে যাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে (রাস্তা নিরাপদ, পরিবারের খরচের ব্যবস্থা থাকা)
বিশেষ ক্ষেত্রে উমরাহ: (العمرة في حالات خاصة)
- নারীদের জন্য: নারীরা উমরাহ করতে পারেন, তবে মাহরাম (স্বামী, পিতা, ভাই, পুত্র ইত্যাদি) সহ যাওয়া উত্তম
- বৃদ্ধদের জন্য: বৃদ্ধ ব্যক্তিরা উমরাহ করতে পারেন, তবে শারীরিক সামর্থ্য থাকতে হবে
- শিশুদের জন্য: শিশুরা উমরাহ করতে পারে, তবে তাদের উমরাহ সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে
- অসুস্থদের জন্য: অসুস্থ ব্যক্তিরা উমরাহ করতে পারেন, তবে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে
📌 নারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা:
- নারীরা মাহরাম ছাড়া উমরাহ করতে পারবেন না
- হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় উমরাহ করা যায় না
- ইহরামের সময় মুখমণ্ডল ঢাকতে হবে না
- হাতমোজা পরা যাবে না
১. ইহরাম গ্রহণ (الإحرام)
কি করতে হবে: (ما يجب فعله)
- মিকাত (Meeqat) এর আগে ইহরাম পরিধান করুন
- পুরুষদের জন্য: দুইটি সাদা কাপড় (একটি কোমরে, একটি কাঁধে)
- মহিলাদের জন্য: সাধারণ পোশাক (হাত-পা ঢাকা)
- গোসল করুন বা ওজু করুন
- ইহরামের নিয়ত করুন
ইহরামের নিয়ত (Niyyah):
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً
Labbaik Allahumma Umratan
হে আল্লাহ, আমি উমরাহর জন্য উপস্থিত
তালবিয়া (Talbiyah):
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
Labbaik Allahumma Labbaik, Labbaik La Sharika Laka Labbaik, Innal Hamda Wan Ni'mata Laka Wal Mulk, La Sharika Lak
হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত, আমি উপস্থিত। আপনার কোন শরীক নেই, আমি উপস্থিত। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনার, আপনার কোন শরীক নেই।
২. কাবা শরীফে প্রবেশ (الدخول إلى الكعبة المشرفة)
কি করতে হবে: (ما يجب فعله)
- মসজিদুল হারামে প্রবেশ করুন
- কাবা শরীফের দিকে মুখ করুন
- প্রবেশের সময় দোয়া পড়ুন
মসজিদে প্রবেশের দোয়া:
اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
Allahumma Iftah Li Abwaba Rahmatik
হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন
৩. তাওয়াফ - কাবা প্রদক্ষিণ (الطواف حول الكعبة)
কি করতে হবে: (ما يجب فعله)
- হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে শুরু করুন
- কাবা শরীফকে বাম দিকে রেখে ৭ বার প্রদক্ষিণ করুন
- প্রথম ৩ চক্করে রমল (দ্রুত হাঁটা) করুন (পুরুষদের জন্য)
- প্রতিটি চক্করে হাজরে আসওয়াদে চুমু দিন বা ইশারা করুন
তাওয়াফ শুরু করার দোয়া:
بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
Bismillahi Wallahu Akbar
আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ
তাওয়াফের সময় পড়ার দোয়া:
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
Subhanallahi Walhamdulillahi Wa La Ilaha Illallahu Wallahu Akbar
আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ
৪. মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ (الصلاة في مقام إبراهيم)
কি করতে হবে: (ما يجب فعله)
- তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহিমের কাছে যান
- ২ রাকাত নামাজ পড়ুন
- প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরুন, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়ুন
৫. জমজম পানি পান (شرب ماء زمزم)
কি করতে হবে: (ما يجب فعله)
- জমজম কূপের কাছে যান
- কিবলার দিকে মুখ করে পান করুন
- দোয়া পড়ে পান করুন
জমজম পান করার দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا وَاسِعًا وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ
Allahumma Inni As'aluka Ilman Nafian Wa Rizqan Wasian Wa Shifaan Min Kulli Dain
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সকল রোগ থেকে আরোগ্য চাই
৬. সাঈ - সাফা-মারওয়া (السعي بين الصفا والمروة)
কি করতে হবে: (ما يجب فعله)
- সাফা পাহাড় থেকে শুরু করুন
- মারওয়া পর্যন্ত ৭ বার যাতায়াত করুন
- সাফা থেকে মারওয়া = ১ বার
- মারওয়া থেকে সাফা = ১ বার
- প্রতিটি পাহাড়ে উঠে দোয়া করুন
সাফায় দোয়া:
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
Innas Safa Wal Marwata Min Sha'airillah
নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত
৭. চুল কাটা/মুন্ডন (قص الشعر/الحلاقة)
কি করতে হবে: (ما يجب فعله)
- সাঈ শেষে চুল কাটুন বা মুন্ডন করুন
- পুরুষদের জন্য: মুন্ডন করা উত্তম, তবে চুল কাটাও বৈধ
- মহিলাদের জন্য: শুধু চুলের অগ্রভাগ কাটতে হবে (মুন্ডন নয়)
- চুল কাটার পর ইহরাম খুলে ফেলুন
মসজিদে নববীতে যাওয়া (Visiting Masjid al-Nabawi)
উমরাহ সম্পন্ন করার পর বা আগে মদিনা শরীফে গিয়ে মসজিদে নববীতে নামাজ পড়া এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর রওজা শরীফে সালাম দেওয়া একটি সুন্নত ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
মসজিদে নববীতে যাওয়ার ফজিলত সম্পর্কে হাদীস
হাদীস ১:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَشُدُّ الرِّحَالَ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ: الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى
An Abi Hurairata Radiyallahu Anhu Anna Rasulallahi Sallallahu Alaihi Wasallam Qala: La Tashuddu Ar Rihala Illa Ila Thalathati Masajida: Al Masjidil Harami Wa Masjidi Hadha Wal Masjidil Aqsa
অনুবাদ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করো না: মসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববী) এবং মসজিদুল আকসা।" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
হাদীস ২:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ
An Abi Hurairata Radiyallahu Anhu Qala: Qala Rasulallahi Sallallahu Alaihi Wasallam: Salatun Fi Masjidi Hadha Khairun Min Alfi Salatin Fima Siwahu Illa Al Masjidil Haram
অনুবাদ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববী) এক নামাজ মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য যেকোনো মসজিদে এক হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম।" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
হাদীস ৩:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي
An Abdullahi Ibn Umar Radiyallahu Anhuma Anna Rasulallahi Sallallahu Alaihi Wasallam Qala: Man Zara Qabri Wajabat Lahu Shafa'ati
অনুবাদ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হবে।" (দারাকুতনি, বায়হাকী)
হাদীস ৪:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ
An Abi Hurairata Radiyallahu Anhu Qala: Qala Rasulallahi Sallallahu Alaihi Wasallam: Ma Baina Baiti Wa Minbari Rawdatun Min Riyadil Jannah
অনুবাদ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান হল জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান।" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
মসজিদে নববীতে কি করতে হবে?
মদিনায় পৌঁছার পর করণীয়:
- মসজিদে নববীতে প্রবেশ: প্রথমে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করুন
- তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ: মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ পড়ুন
- রওজা শরীফে সালাম: রাসূলুল্লাহ (সা.) এর রওজা শরীফের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে সালাম দিন
- দোয়া: রাসূলুল্লাহ (সা.), হযরত আবু বকর (রা.) ও হযরত উমর (রা.) এর জন্য দোয়া করুন
- রওজা শরীফে নামাজ: রওজা শরীফে (মসজিদে নববীর বিশেষ স্থান) নামাজ পড়ার ফজিলত অনেক
রওজা শরীফে সালাম দেওয়ার দোয়া:
السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا حَبِيبَ اللَّهِ
Assalamu Alaika Ya Rasulallah, Assalamu Alaika Ya Nabiyyallah, Assalamu Alaika Ya Habiballah
অনুবাদ: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর সালাম। হে আল্লাহর নবী, আপনার উপর সালাম। হে আল্লাহর প্রিয়, আপনার উপর সালাম।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জন্য দোয়া:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
Allahumma Salli Ala Muhammadin Wa Ala Ali Muhammadin Kama Sallaita Ala Ibrahima Wa Ala Ali Ibrahima Innaka Hamidun Majidun
অনুবাদ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করেছিেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।
মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত
- বিশেষ পুরস্কার: মসজিদে নববীতে এক নামাজ মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য যেকোনো মসজিদে এক হাজার নামাজের সমান
- রওজা শরীফ: রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান হল জান্নাতের বাগান
- শাফাআত: রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কবর জিয়ারত করলে তাঁর শাফাআত পাওয়ার সুযোগ
- দোয়া কবুল: মসজিদে নববীতে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময়
📌 গুরুত্বপূর্ণ মনে রাখবেন:
- উমরাহ সম্পন্ন করার পর মদিনায় যাওয়া সুন্নত
- মসজিদে নববীতে নামাজ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ
- রওজা শরীফে সালাম দেওয়া এবং দোয়া করা
- মদিনায় অবস্থানকালে বেশি বেশি নামাজ পড়া ও দোয়া করা
- রওজা শরীফে ভিড় এড়িয়ে শান্তভাবে সালাম দেওয়া
✅ উমরাহ সম্পন্ন!
আপনার উমরাহ সম্পন্ন হয়েছে। আল্লাহ আপনার উমরাহ কবুল করুন।