ইবাদত (Worship)
নামাজের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা - নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নাহ অনুযায়ী
মোট 11টি বিভাগ
নামাজের পূর্বশর্তসমূহ (Prerequisites for Prayer)شروط الصلاة(Shurūṭ aṣ-Ṣalāh)
📋 নামাজের পূর্বশর্ত
নামাজ পড়ার আগে অবশ্যই এই শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
১. পবিত্রতা (Taharah)
- ওযু (Wudu): নামাজের জন্য ওযু করা ফরজ
- গোসল (Ghusl): প্রয়োজন হলে গোসল করা
- পোশাক-আশাক: পবিত্র ও ঢেকে রাখা
- স্থান: নামাজের স্থান পবিত্র হতে হবে
২. কিবলার দিকে মুখ করা (Qibla)
কাবা শরীফের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তে হবে।
৩. সময় (Time)
প্রতিটি নামাজের নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে হবে।
৪. নিয়ত (Intention)
মনে মনে নিয়ত করতে হবে কোন নামাজ পড়ছেন।
💡 গুরুত্বপূর্ণ
নামাজের সকল কাজ নবী মুহাম্মদ (সা.) এর দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী করতে হবে।
২ রাকাত ফরজ নামাজ (2 Rakat Fard Prayer)ركعتان فرض(Rakʿatān Farḍ)
🕌 ২ রাকাত ফরজ নামাজ
ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজে ২ রাকাত ফরজ রয়েছে।
নিয়ত (Intention)
মনে মনে বলবেন: "আমি আল্লাহর জন্য ২ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ছি, কিবলার দিকে মুখ করে।"
প্রথম রাকাত (First Rakat)
- তাকবীরে তাহরীমা (Takbiratul Ihram):
اللّٰهُ أَكْبَرُ
হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে বলবেন।
- কিয়াম (Standing):
হাত বেঁধে দাঁড়াবেন। ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবেন।
সানা (Opening Dua)
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَىٰ جَدُّكَ وَلَا إِلَٰهَ غَيْرُكَ
- তাআউয (Seeking Refuge):
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
- বিসমিল্লাহ (Bismillah):
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
- সূরা ফাতিহা (Surah Al-Fatiha):
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ * مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ * إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ * اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
ফরজ: সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ। প্রতিটি রাকাতে পড়তে হবে।
- কুরআনের সূরা (Any Surah):
সূরা ফাতিহার পর যেকোনো একটি সূরা বা কয়েকটি আয়াত পড়বেন।
সূরা ইখলাস (উদাহরণ)
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
- রুকু (Ruku):
আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবেন। হাত হাঁটুতে রাখবেন।
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ
কমপক্ষে ৩ বার বলবেন (অন্তত ১ বার, উত্তম ৩ বার বা বেশি)।
তারপর অতিরিক্ত হিসেবে এই দু'আগুলো পড়তে পারেন:
রুকুতে বিশেষ দোয়া ১
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
রুকুতে বিশেষ দোয়া ২
سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
- রুকু থেকে উঠা (Rising from Ruku):
সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা বলে উঠবেন।
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ
দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলবেন।
তারপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলবেন:
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ
- সিজদা (First Sajdah):
আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যাবেন।
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَىٰ
কমপক্ষে ৩ বার বলবেন (অন্তত ১ বার, উত্তম ৩ বার বা বেশি)।
তারপর অতিরিক্ত হিসেবে এই দু'আগুলো পড়তে পারেন:
সিজদায় বিশেষ দোয়া ১
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
সিজদায় বিশেষ দোয়া ২
سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
- সিজদা থেকে উঠা (Rising from Sajdah):
আল্লাহু আকবার বলে উঠে বসবেন।
رَبِّ اغْفِرْ لِي
- দ্বিতীয় সিজদা (Second Sajdah):
আল্লাহু আকবার বলে আবার সিজদায় যাবেন।
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَىٰ
কমপক্ষে ৩ বার বলবেন (অন্তত ১ বার, উত্তম ৩ বার বা বেশি)।
তারপর অতিরিক্ত হিসেবে এই দু'আগুলো পড়তে পারেন:
সিজদায় বিশেষ দোয়া ১
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
সিজদায় বিশেষ দোয়া ২
سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
দ্বিতীয় রাকাত (Second Rakat)
- দাঁড়ানো (Standing):
আল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন।
- সূরা ফাতিহা ও সূরা:
প্রথম রাকাতের মতো সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা পড়বেন।
- রুকু ও সিজদা:
প্রথম রাকাতের মতো রুকু ও দুটি সিজদা করবেন।
- তাশাহহুদ (Tashahhud):
দ্বিতীয় সিজদার পর বসে তাশাহহুদ পড়বেন।
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَىٰ عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
- দরুদ শরীফ (Durood Sharif):
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
- দোয়া (Dua):
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
- সালাম (Salam):
ডান দিকে মুখ করে সালাম ফিরাবেন।
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ
তারপর বাম দিকে মুখ করে একইভাবে সালাম ফিরাবেন।
📌 গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
- সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ - কোনো অবস্থায় বাদ দেওয়া যাবে না
- রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে ৩ বার তাসবীহ পড়তে হবে
- সিজদায় ৭টি অঙ্গ মাটিতে লাগাতে হবে: কপাল, নাক, দুই হাত, দুই হাঁটু, দুই পায়ের আঙ্গুল
- নামাজে মনোযোগ দিতে হবে, অন্য কথা বলা হারাম
- নামাজের মধ্যে হাঁচি-কাশি আসলে "আলহামদুলিল্লাহ" বলবেন
২ রাকাত সুন্নত নামাজ (2 Rakat Sunnat Prayer)ركعتان سنة(Rakʿatān Sunna)
📿 ২ রাকাত সুন্নত নামাজ
ফজর, জোহর, মাগরিব ও এশার নামাজের আগে-পরে সুন্নত রয়েছে।
সুন্নত নামাজের গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
مَنْ صَلَّى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
"যে ব্যক্তি দিন-রাতে ১২ রাকাত (সুন্নত) নামাজ পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে।" (সহীহ মুসলিম)
২ রাকাত সুন্নত নামাজের পদ্ধতি
২ রাকাত ফরজ নামাজের মতোই, তবে পার্থক্য হলো:
- নিয়ত: "আমি আল্লাহর জন্য ২ রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ছি"
- ফজরের সুন্নত: ফরজের আগে ২ রাকাত
- জোহরের সুন্নত: ফরজের আগে ৪ রাকাত (২+২) বা পরে ২ রাকাত
- মাগরিবের সুন্নত: ফরজের পরে ২ রাকাত
- এশার সুন্নত: ফরজের পরে ২ রাকাত
সুন্নত নামাজের বিশেষ দোয়া
সুন্নত নামাজে তাশাহহুদের পর এই দোয়া পড়া উত্তম:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
💡 সুন্নতের ফজিলত
সুন্নত নামাজ পড়লে ফরজের ত্রুটি পূরণ হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়।
২ রাকাত নফল নামাজ (2 Rakat Nafl Prayer)ركعتان نفل(Rakʿatān Nafl)
🌟 ২ রাকাত নফল নামাজ
নফল নামাজ অতিরিক্ত ইবাদত, যা পড়লে সওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু না পড়লে গুনাহ হয় না।
নফল নামাজের সময়
- ইশরাক: সূর্যোদয়ের পর (প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর)
- চাশত: সকাল ১০-১১টার দিকে
- আওয়াবীন: মাগরিবের পর
- যেকোনো সময়: নিষিদ্ধ সময় ছাড়া
নিষিদ্ধ সময়
- সূর্যোদয়ের সময়
- সূর্য ঠিক মাথার উপর থাকার সময় (জোহরের আগে)
- সূর্যাস্তের সময়
২ রাকাত নফল নামাজের পদ্ধতি
২ রাকাত ফরজ নামাজের মতোই।
নিয়ত: "আমি আল্লাহর জন্য ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ছি"
নফল নামাজের বিশেষ দোয়া
তাশাহহুদের পর
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رِضَاكَ وَالْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ سَخَطِكَ وَالنَّارِ
📌 নফলের ফজিলত
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নফল নামাজ দ্বারা বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়।" (সহীহ বুখারী)
৩ রাকাত বিতর নামাজ (3 Rakat Witr Prayer)ثلاث ركعات وتر(Thalāth Rakʿāt Witr)
🌙 ৩ রাকাত বিতর নামাজ
এশার নামাজের পর বিতর নামাজ পড়া ওয়াজিব। এটি রাতের শেষ নামাজ।
বিতর নামাজের গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ বিজোড় (ওয়িতর), তিনি বিজোড়কে ভালোবাসেন।" (সহীহ বুখারী)
৩ রাকাত বিতর নামাজের পদ্ধতি
পদ্ধতি ১: দুই রাকাত পড়ে সালাম, তারপর এক রাকাত (সুন্নত পদ্ধতি)
প্রথম দুই রাকাত:
- ২ রাকাত ফরজ নামাজের মতো পড়বেন
- দ্বিতীয় রাকাতের তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরাবেন
তৃতীয় রাকাত (এক রাকাত):
- তাকবীর: আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়াবেন
- সূরা ফাতিহা ও সূরা: সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা পড়বেন
- কুনুত দোয়া (Qunoot):
রুকুতে যাওয়ার আগে হাত উঠিয়ে কুনুত দোয়া পড়বেন:
اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَىٰ عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ
- রুকু ও সিজদা: রুকু ও দুটি সিজদা করবেন
- তাশাহহুদ ও সালাম: তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরাবেন
পদ্ধতি ২: তিন রাকাত একসাথে (বিকল্প পদ্ধতি)
- প্রথম দুই রাকাত ২ রাকাত ফরজের মতো পড়বেন
- দ্বিতীয় রাকাতের তাশাহহুদ পড়বেন (সালাম ফিরাবেন না)
- তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন
- সূরা ফাতিহা ও সূরা পড়বেন
- কুনুত দোয়া পড়বেন
- রুকু ও সিজদা করে তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরাবেন
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ
- বিতর নামাজ পড়া ওয়াজিব - এশার পর অবশ্যই পড়তে হবে
- কুনুত দোয়া পড়া সুন্নত
- তিন রাকাত একসাথে পড়লে দ্বিতীয় রাকাতের তাশাহহুদ পড়তে হবে
- রাতের শেষ নামাজ এটি
১ রাকাত বিতর নামাজ (1 Rakat Witr Prayer)ركعة وتر(Rakʿa Witr)
🌙 ১ রাকাত বিতর নামাজ
কখনো কখনো ১ রাকাত বিতরও পড়া যায় (তাহাজ্জুদের পর)।
১ রাকাত বিতরের পদ্ধতি
- নিয়ত: "আমি আল্লাহর জন্য ১ রাকাত বিতর নামাজ পড়ছি"
- তাকবীরে তাহরীমা: আল্লাহু আকবার
- সূরা ফাতিহা ও সূরা: সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা পড়বেন
- কুনুত দোয়া: রুকুতে যাওয়ার আগে কুনুত দোয়া পড়বেন (৩ রাকাত বিতরের মতো)
- রুকু ও সিজদা: রুকু ও দুটি সিজদা করবেন
- তাশাহহুদ ও সালাম: তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরাবেন
💡 নোট
তাহাজ্জুদের পর ১ রাকাত বিতর পড়া যায়। তবে সাধারণত ৩ রাকাত বিতরই পড়া হয়।
২ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ (2 Rakat Tahajjud Prayer)ركعتان تهجد(Rakʿatān Tahajjud)
🌃 ২ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ
রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া খুবই ফজিলতপূর্ণ।
তাহাজ্জুদের সময়
- সর্বোত্তম সময়: রাতের শেষ তৃতীয়াংশ (সেহরির আগে)
- শুরু: এশার নামাজের পর
- শেষ: ফজরের নামাজের আগে
তাহাজ্জুদের ফজিলত
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন:
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا
"এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত। আশা করা যায়, আপনার রব আপনাকে মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছাবেন।" (সূরা আল-ইসরা: ৭৯)
২ রাকাত তাহাজ্জুদের পদ্ধতি
- ঘুম থেকে উঠা:
ঘুম থেকে উঠে ওযু করবেন।
ওঠার দোয়া
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
- নিয়ত: "আমি আল্লাহর জন্য ২ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ছি"
- নামাজ: ২ রাকাত ফরজ নামাজের মতোই পড়বেন
- তাশাহহুদের পর বিশেষ দোয়া:
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَقَوْلُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ وَمُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ
- সালাম: সালাম ফিরাবেন
তাহাজ্জুদের পর দোয়া
তাহাজ্জুদ নামাজের পর দোয়া করা খুবই ফজিলতপূর্ণ।
তাহাজ্জুদের পর দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِكَ تَهْدِي بِهَا قَلْبِي وَتَجْمَعُ بِهَا شَمْلِي وَتُلَافِي بِهَا فُرْقَتِي وَتُصْلِحُ بِهَا دِينِي وَتُحْفَظُ بِهَا غَائِبِي وَتَرْفَعُ بِهَا شَاهِدِي وَتُزَكِّي بِهَا عَمَلِي وَتُنَوِّرُ بِهَا لِي قَلْبِي وَتَبْعَثُنِي بِهَا عَلَىٰ الْخَيْرِ كُلِّهِ وَتَقْنَعُنِي بِهَا وَتَزْهِدُنِي فِيمَا عِنْدَ غَيْرِكَ
🌟 তাহাজ্জুদের বিশেষ ফজিলত
- তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া খুবই ফজিলতপূর্ণ
- রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দোয়া কবুল হয়
- রাসূলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তেন
- তাহাজ্জুদের পর দোয়া করা খুবই কার্যকর
- ২, ৪, ৬, ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়া যায়
জানাযা নামাজ (Janaza/Funeral Prayer)صلاة الجنازة(Ṣalāt al-Janāza)
🕌 জানাযা নামাজ
মৃত মুসলমানের জন্য জানাযা নামাজ পড়া ফরজে কেফায়া।
জানাযা নামাজের গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
صَلُّوا عَلَىٰ مَوْتَاكُمْ
"তোমাদের মৃতদের জন্য নামাজ পড়।" (সহীহ বুখারী)
জানাযা নামাজের শর্তসমূহ
- মৃত ব্যক্তি: মুসলমান হতে হবে
- গোসল: মৃত ব্যক্তির গোসল দেওয়া হয়েছে
- কাফন: কাফন পরানো হয়েছে
- স্থান: জানাযা নামাজের জন্য উপযুক্ত স্থান
- ইমাম: জানাযা নামাজে ইমাম থাকতে হবে
জানাযা নামাজের পদ্ধতি
জানাযা নামাজে রাকাত নেই, রুকু নেই, সিজদা নেই। শুধু দাঁড়িয়ে দোয়া পড়তে হয়।
ধাপ ১: নিয়ত (Intention)
মনে মনে বলবেন: "আমি আল্লাহর জন্য এই মৃত ব্যক্তির জানাযা নামাজ পড়ছি, কিবলার দিকে মুখ করে।"
ধাপ ২: প্রথম তাকবীর (First Takbir)
اللّٰهُ أَكْبَرُ
হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবীর বলবেন, তারপর হাত বেঁধে রাখবেন।
ধাপ ৩: সানা (Sana)
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَىٰ جَدُّكَ وَلَا إِلَٰهَ غَيْرُكَ
ধাপ ৪: দ্বিতীয় তাকবীর (Second Takbir)
اللّٰهُ أَكْبَرُ
ধাপ ৫: দরুদ শরীফ (Durood Sharif)
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
ধাপ ৬: তৃতীয় তাকবীর (Third Takbir)
اللّٰهُ أَكْبَرُ
ধাপ ৭: মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া (Dua for the Deceased)
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ
প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার জন্য:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهَا وَارْحَمْهَا وَعَافِهَا وَاعْفُ عَنْهَا وَأَكْرِمْ نُزُلَهَا وَوَسِّعْ مُدْخَلَهَا وَاغْسِلْهَا بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّهَا مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهَا دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهَا وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهَا وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهَا وَأَدْخِلْهَا الْجَنَّةَ وَأَعِذْهَا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ
নাবালেগ শিশুর জন্য (সংক্ষিপ্ত):
اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَاجْعَلْهُ لَنَا أَجْرًا وَذُخْرًا وَاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَمُشَفَّعًا
ধাপ ৮: চতুর্থ তাকবীর (Fourth Takbir)
اللّٰهُ أَكْبَرُ
ধাপ ৯: সালাম (Salam)
ডান দিকে মুখ করে সালাম ফিরাবেন:
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ
তারপর বাম দিকে মুখ করে একইভাবে সালাম ফিরাবেন।
জানাযা নামাজের বিশেষ নিয়ম
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
- জানাযা নামাজে রাকাত নেই, রুকু নেই, সিজদা নেই
- শুধু দাঁড়িয়ে পড়তে হয়
- চারটি তাকবীর পড়তে হয়
- প্রতিটি তাকবীরের পর নির্দিষ্ট দোয়া পড়তে হয়
- মৃত ব্যক্তির সামনে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়
- ইমাম মৃত ব্যক্তির বুকের সমান দাঁড়াবেন
- পুরুষ হলে "লাহু" (তার জন্য), মহিলা হলে "লাহা" (তার জন্য) বলবেন
- জানাযা নামাজ পড়া ফরজে কেফায়া - কিছু লোক পড়লে সবাই দায়িত্বমুক্ত
জানাযা নামাজের পর
জানাযা নামাজের পর মৃত ব্যক্তিকে কবরে দাফন করতে হবে।
কবরে দাফনের সময়
بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَىٰ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ
নামাজে যা পড়তে হয় এবং নামাজের পর (What to Read During and After Prayer)ما يقرأ في الصلاة وبعدها(Mā Yuqrāʾ fī aṣ-Ṣalāh wa Baʿdahā)
📖 নামাজে পড়ার বিষয়সমূহ
নামাজের বিভিন্ন অবস্থায় যা পড়তে হয় এবং নামাজের পর যা পড়া উত্তম।
নামাজের মধ্যে যা পড়তে হয় (During Prayer)
১. নামাজ শুরুতে (At the Beginning)
তাকবীরে তাহরীমা
اللّٰهُ أَكْبَرُ
২. কিয়ামে (While Standing)
সানা
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَىٰ جَدُّكَ وَلَا إِلَٰهَ غَيْرُكَ
তাআউয
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
বিসমিল্লাহ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
৩. রুকুতে (In Ruku)
কমপক্ষে রুকুর মূল তাসবীহটা বলবেন:
রুকুর মূল তাসবীহ (অবশ্যই পড়তে হবে)
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ
অন্তত ১ বার, উত্তম ৩ বার বা বেশি বলবেন।
তারপর চাইলে অতিরিক্ত হিসেবে এই দু'আগুলো যোগ করতে পারেন:
রুকুতে বিশেষ দোয়া ১
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
রুকুতে বিশেষ দোয়া ২
سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
এই দু'আগুলো রুকু ও সিজদা—দুই জায়গাতেই বলা যায়।
৪. রুকু থেকে উঠার পর (After Rising from Ruku)
সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ
তারপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলবেন:
রাব্বানা লাকাল হামদ
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ
৫. সিজদায় (In Sajdah)
কমপক্ষে সিজদার মূল তাসবীহটা বলবেন:
সিজদার মূল তাসবীহ (অবশ্যই পড়তে হবে)
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَىٰ
অন্তত ১ বার, উত্তম ৩ বার বা বেশি বলবেন।
তারপর চাইলে অতিরিক্ত হিসেবে এই দু'আগুলো যোগ করতে পারেন:
সিজদায় বিশেষ দোয়া ১
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
সিজদায় বিশেষ দোয়া ২
سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
💡 সিজদায় যিকিরের নিয়ম
- প্রতি সিজদায় একই দু'আ বাধ্যতামূলক নয়—কখনও এটা, কখনও অন্যটা পড়া সুন্নাহর বৈচিত্র্য
- ফরজ নামাজে সাধারণত খুব লম্বা না করা ভালো
- নফল নামাজে আরও বেশি/দীর্ঘ পড়া যায়
- এই দু'আগুলো রুকু ও সিজদা—দুই জায়গাতেই বলা যায়
৬. দুই সিজদার মাঝে (Between Two Sajdahs)
রাব্বিগফির লী
رَبِّ اغْفِرْ لِي
৭. তাশাহহুদে (In Tashahhud)
তাশাহহুদ
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَىٰ عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
৮. দরুদ শরীফ (Durood Sharif)
দরুদ
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
৯. সালাম (Salam)
সালাম
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ
নামাজের পর যা পড়া উত্তম (After Prayer)
১. তাসবীহ (Tasbih)
আস্তাগফিরুল্লাহ
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
৩ বার বলবেন।
২. আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi)
আয়াতুল কুরসি
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
৩. সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস (3 Kuls)
সূরা ইখলাস
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
সূরা ফালাক
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ * مِن شَرِّ مَا خَلَقَ * وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ * وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ * وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
সূরা নাস
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ * مَلِكِ النَّاسِ * إِلَٰهِ النَّاسِ * مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ * الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ * مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
প্রতিটি সূরা ১ বার পড়বেন।
৪. নামাজের পর বিশেষ দোয়া (Special Dua After Prayer)
নামাজের পর দোয়া
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
আরেকটি দোয়া
لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
১০ বার বলবেন।
💡 নামাজের পরের আমল
- নামাজের পর তাসবীহ পড়া খুবই ফজিলতপূর্ণ
- আয়াতুল কুরসি পড়লে আল্লাহর হেফাজত পাওয়া যায়
- ৩ কুল (ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়া সুন্নত
- নামাজের পর দোয়া কবুল হয়
- রাসূলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত নামাজের পর এই আমল করতেন
সাধারণ গোসল (Regular Ghusl - Sunnat/Normal)
🚿 সাধারণ গোসল (সুন্নত/পরিচ্ছন্নতার জন্য)
এটি জুমার দিন, ঈদের আগে, গরমে/পরিচ্ছন্নতার জন্য, বা ইহরাম/হজ-উমরাহ ইত্যাদিতে করা যায়।
সাধারণ গোসল কখন করা যায়?
- জুমার দিন: জুমার নামাজের আগে
- ঈদের দিন: ঈদের নামাজের আগে
- পরিচ্ছন্নতার জন্য: গরমে বা শরীর পরিষ্কার করতে
- ইহরাম/হজ-উমরাহ: ইহরামের আগে
- সুন্নত হিসেবে: নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার জন্য
সাধারণ গোসলের ধাপসমূহ (Step by Step)
- নিয়ত করুন:
"আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গোসল করছি / পবিত্র হচ্ছি।"
- বিসমিল্লাহ বলুন:
بِسْمِ اللَّهِ
- দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধুয়ে নিন:
প্রথমে দুই হাত কবজি পর্যন্ত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- লজ্জাস্থান/নাপাক জায়গা পরিষ্কার করুন:
যদি কোনো নাপাকতা থাকে, তা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
- পূর্ণ ওযু করে নিন:
সাধারণ ওযুর মতো মুখ, হাত, মাথা মাসেহ, পা ধুয়ে নিন। (পা শেষে ধোয়া যেতে পারে)
- মাথায় পানি দিন (৩ বার):
মাথায় পানি দিন এবং চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোর নিশ্চিত করুন।
- ডান কাঁধ/ডান পাশ (৩ বার):
ডান কাঁধ ও ডান পাশে পানি দিন, পুরো ডান দিক ভিজিয়ে নিন।
- বাম কাঁধ/বাম পাশ (৩ বার):
বাম কাঁধ ও বাম পাশে পানি দিন, পুরো বাম দিক ভিজিয়ে নিন।
- পুরো শরীর ঘষে ধুয়ে নিশ্চিত করুন:
- বগল (আন্ডারআর্ম)
- নাভি
- আঙুলের ফাঁক
- কানের ভেতরের অংশ (যেখানে পানি পৌঁছায়)
- দাড়ি/চুলের ভেতর (যদি থাকে)
নিশ্চিত করুন যে শরীরের কোনো অংশ শুকনা না থাকে।
- শেষে পা ধুয়ে নিন:
যদি আগে পা না ধোয়া হয়ে থাকে, শেষে পা ধুয়ে নিন।
✅ সাধারণ গোসলের সুবিধা
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন
- সুন্নত পালন
- শরীর ও মন সতেজ রাখা
- ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি
গোসলের পর দোয়া
গোসলের পর
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ
ফরজ গোসল (Farz Ghusl - Obligatory)
🚿 ফরজ গোসল (গোসল ওয়াজিব/ফরজ হওয়া অবস্থায়)
ফরজ গোসল লাগে যেমন: সহবাস, বীর্যপাত, হায়েয/নিফাস শেষ ইত্যাদিতে।
ফরজ গোসল কখন করতে হয়?
- সহবাসের পর: স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের পর
- বীর্যপাত: স্বপ্নদোষ বা অন্য কোনো কারণে বীর্যপাত হলে
- হায়েয শেষ: মহিলাদের মাসিক শেষ হলে
- নিফাস শেষ: সন্তান প্রসবের পর রক্তপাত শেষ হলে
- ইস্তিহাযা: অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে
ফরজ গোসলের "ফরজ" (হানাফি মতে ৩টি)
⚠️ ফরজ গোসলের ৩টি ফরজ (অবশ্যই করতে হবে)
- মুখে কুলি করা: মুখের ভেতর ভালোভাবে পানি পৌঁছানো
- নাকে পানি দেওয়া: নরমভাবে নাকের ভেতর পর্যন্ত পানি দেওয়া
- পুরো শরীরে পানি পৌঁছানো: এক চুল পরিমাণ জায়গাও শুকনা না থাকা
ফরজ গোসলের সম্পূর্ণ সুন্নত পদ্ধতি (Step by Step)
- নিয়ত:
"আমি অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র হওয়ার জন্য ফরজ গোসল করছি।"
- বিসমিল্লাহ বলুন:
بِسْمِ اللَّهِ
- দুই হাত ধোয়া:
প্রথমে দুই হাত কবজি পর্যন্ত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- লজ্জাস্থান/নাপাক জায়গা ভালোভাবে ধোয়া:
যদি কোনো নাপাকতা থাকে, তা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
- ওযু করে নিন:
গোসলের পরে নামাজ পড়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার জন্য পূর্ণ ওযু করে নিন।
- কুলি করুন (৩ বার) - ফরজ:
মুখে কুলি করুন এবং ভালোভাবে মুখের ভেতর পানি পৌঁছানোর নিশ্চিত করুন।
এটি ফরজ গোসলের একটি ফরজ অংশ।
- নাকে পানি দিন (৩ বার) - ফরজ:
নাকে পানি দিন এবং নরমভাবে নাকের ভেতর পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর নিশ্চিত করুন।
এটি ফরজ গোসলের একটি ফরজ অংশ।
- মাথায় পানি দিন (৩ বার):
মাথায় পানি দিন এবং চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর নিশ্চিত করুন।
- ডান পাশ তারপর বাম পাশ ধুয়ে নিন:
পুরো শরীর ভিজবে এমনভাবে ডান পাশ তারপর বাম পাশ ধুয়ে নিন।
- শরীর ঘষে ধুয়ে নিন:
নিশ্চিত করুন যে শরীরের প্রতিটি অংশ ভিজেছে:
- বগল (আন্ডারআর্ম)
- নাভি
- আঙুলের ফাঁক
- হাঁটু/কানের পেছন
- দাড়ি/চুলের ভেতর (যতটা পানি পৌঁছানো সম্ভব)
- কানের ভেতরের অংশ
এক চুল পরিমাণ জায়গাও শুকনা না থাকা - এটি ফরজ।
- শেষে পা ধুয়ে নিন:
যদি শেষে ধোয়া সুবিধা হয়, শেষে পা ধুয়ে নিন।
⚠️ ফরজ গোসলের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
- ৩টি ফরজ অবশ্যই করতে হবে: কুলি, নাকে পানি, পুরো শরীর ভেজানো
- এক চুল পরিমাণ জায়গাও শুকনা থাকলে গোসল হবে না
- ফরজ গোসল না করলে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, মসজিদে প্রবেশ ইত্যাদি বৈধ হবে না
- গোসলের পর ওযু করে নিলে নামাজের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন
- চুল বেঁধে থাকলে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে
ফরজ গোসলের পর দোয়া
গোসলের পর
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ
গোসল সম্পর্কে FAQ (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)
❓ চুল বেঁধে থাকলে কি গোসল হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে। চুল খুলে ধোয়া উত্তম, তবে যদি চুল খোলা সম্ভব না হয়, তাহলে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছালেই হবে।
❓ নখে মেকআপ/পলিশ থাকলে কি গোসল হবে?
উত্তর: নখের নিচে পানি পৌঁছাতে হবে। যদি মেকআপ/পলিশ পানি প্রবেশে বাধা দেয়, তাহলে তা সরিয়ে নিতে হবে।
❓ স্বপ্ন দেখলে কিন্তু ভেজা না থাকলে কি গোসল করতে হবে?
উত্তর: যদি বীর্যপাত না হয়ে থাকে, তাহলে গোসল করতে হবে না। তবে যদি বীর্যপাত হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ফরজ গোসল করতে হবে।
❓ গোসলের সময় কাপড় পরা যাবে?
উত্তর: গোসলের সময় নগ্ন থাকা উত্তম, তবে যদি লজ্জার কারণে কাপড় পরা হয়, তাহলে কাপড়ের নিচে শরীরের সব অংশে পানি পৌঁছানোর নিশ্চিত করতে হবে।
❓ গোসলের পর আবার ওযু করতে হবে?
উত্তর: যদি গোসলের সময় পূর্ণ ওযু করে নেন, তাহলে গোসলের পর আলাদা ওযু করতে হবে না। তবে যদি গোসলের সময় ওযু না করেন, তাহলে নামাজের জন্য ওযু করতে হবে।
💡 Quick Difference (মনে রাখার সহজ নিয়ম)
- সাধারণ গোসল: পরিষ্কার/সুন্নত (ফরজ অবস্থা না থাকলেও করা যায়)
- ফরজ গোসল: অপবিত্রতা দূর করতে বাধ্যতামূলক (কুলি + নাক + পুরো শরীর ভেজানো অবশ্যই)
সালাম দেওয়া ও সালামের উত্তর (Giving Salam and Responding to Salam)
🤝 সালাম দেওয়া ও সালামের উত্তর
মুসলমানদের মধ্যে সালাম দেওয়া ও উত্তর দেওয়া সুন্নত এবং খুবই ফজিলতপূর্ণ আমল।
সালাম দেওয়ার গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّىٰ تَحَابُّوا أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ
"তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা ঈমান আনবে, এবং তোমরা ঈমান আনতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা পরস্পর ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমরা পরস্পর ভালোবাসবে? তোমাদের মধ্যে সালাম প্রচার কর।" (সহীহ মুসলিম)
সালাম দেওয়ার পদ্ধতি (How to Give Salam)
১. পূর্ণ সালাম (Complete/Standard Salam)
পূর্ণ সালাম
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
এটাই পূর্ণ সালাম (সুন্নাহ/প্রচলিত)।
২. সংক্ষিপ্ত সালাম (Short Salam)
সংক্ষিপ্ত সালাম
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ
সংক্ষিপ্তভাবে এটাও বলা যায়।
৩. সালামের পর অতিরিক্ত দোয়া (Additional Dua After Salam)
সালাম দেওয়ার পর অতিরিক্ত দোয়া যোগ করা যায়:
সালামের পর দোয়া (আরবি)
غَفَرَ اللَّهُ لَكَ وَرَزَقَكَ الْجَنَّةَ
সালাম শেষ করে তারপর এই দোয়া যোগ করা উত্তম—যাতে সুন্নাহ বাক্যটা আলাদা ও ঠিক থাকে।
৪. একসাথে বলার ফরম্যাট (Combined Format)
সবচেয়ে ভালোভাবে একসাথে বলার ফরম্যাট:
"আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু; আল্লাহ আপনাকে মাগফিরাত ও জান্নাত দান করুন।"
একই নিঃশ্বাসে/এক লাইনেই বলতে পারেন, তবে ভালো হলো সালাম শেষ করে তারপর দোয়া যোগ করা।
সালামের উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি (How to Respond to Salam)
১. পূর্ণ উত্তর (Complete Response)
পূর্ণ উত্তর
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
এটাই পূর্ণ উত্তর এবং সবচেয়ে উত্তম।
২. সংক্ষিপ্ত উত্তর (Short Response)
সংক্ষিপ্ত উত্তর
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ
সংক্ষিপ্তভাবে এটাও বলা যায়।
৩. উত্তরের পর দোয়া (Dua After Response)
উত্তর দেওয়ার পরও দোয়া যোগ করা যায়:
উত্তরের পর দোয়া
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ؛ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ وَرَزَقَكَ الْجَنَّةَ
সালাম দেওয়ার নিয়ম (Rules for Giving Salam)
- ছোটকে বড়: ছোট ব্যক্তি বড় ব্যক্তিকে সালাম দেবে
- চলন্তকে স্থির: চলন্ত ব্যক্তি স্থির ব্যক্তিকে সালাম দেবে
- কম সংখ্যাকে বেশি: কম সংখ্যক লোক বেশি সংখ্যক লোককে সালাম দেবে
- প্রবেশকালে: ঘরে বা মসজিদে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া সুন্নত
- বের হওয়ার সময়: বের হওয়ার সময়ও সালাম দেওয়া যায়
সালাম দেওয়ার সময় (When to Give Salam)
- মসজিদে প্রবেশ: মসজিদে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া
- ঘরে প্রবেশ: নিজের বা অন্যের ঘরে প্রবেশের সময়
- সাক্ষাত: কোনো মুসলমানের সাথে সাক্ষাতের সময়
- বিদায়: বিদায় নেওয়ার সময়
- ফোন/মেসেজ: ফোন বা মেসেজে সালাম দেওয়া
সালাম দেওয়ার ফজিলত (Virtues of Giving Salam)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
خَمْسٌ تَجِبُ لِلْمُسْلِمِ عَلَىٰ أَخِيهِ: رَدُّ السَّلَامِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ
"পাঁচটি কাজ একজন মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের হক: সালামের উত্তর দেওয়া, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত গ্রহণ করা এবং হাঁচিদাতার জন্য দোয়া করা।" (সহীহ বুখারী)
✅ সালাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
- সালাম দেওয়া সুন্নত, উত্তর দেওয়া ওয়াজিব
- পূর্ণ সালাম দেওয়া ও উত্তর দেওয়া সবচেয়ে উত্তম
- সালামের পর অতিরিক্ত দোয়া যোগ করা যায়
- সালাম দেওয়ার মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়
- সালাম দেওয়া জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম
- নামাজের সালাম (সালাম ফিরানো) এবং সাধারণ সালাম (সাক্ষাতের সময়) দুটোই গুরুত্বপূর্ণ
বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সালাম (Salam in Different Situations)
📱 ফোন/মেসেজে সালাম:
"আসসালামু আলাইকুম" বা "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু"
🏠 ঘরে প্রবেশের সময়:
ঘরে প্রবেশের সালাম
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ
নিজের ঘরে প্রবেশ করলেও সালাম দেওয়া সুন্নত।
🕌 মসজিদে প্রবেশের সময়:
মসজিদে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া সুন্নত।
👋 বিদায় নেওয়ার সময়:
বিদায় নেওয়ার সময়ও সালাম দেওয়া যায়।